
চট্টগ্রামের চকবাজারে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেটে (ডিডিএন) হামলার ঘটনায় আরও নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। সংস্থাটির দাবি, জনপ্রতি ৫০০ টাকা দেওয়ার বিনিময়ে লোক ভাড়া করে এ হামলা চালিয়েছেন মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন।
শনিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।
অভিযানে তিনটি ছুরিসহ চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাইকেল ওরফে রৌহেন মিয়া প্রকাশ মাইক্যাল (৩১), মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আব্দুল মুমিন (৩০), মো. মাসাদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), মো. সাঞ্জাত হাসান (১৮), সৈকত হোসেন (১৮) ও মো. সাইফুদ্দিন (৩২)।
র্যাবের ভাষ্য, ডিডিএনের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাজু, সানি ও মাইকেল বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০ থেকে ৪০ জনকে জড়ো করে প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে ওই চাঁদা দাবি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ১৩ জুলাই দুপুরে ৩০ থেকে ৪০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, সার্ভার মনিটর ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করেন। কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনার ছয় দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ডেভিড ইমন সানি, রাজু ও মাইকেলের সহযোগিতায় ৩০ থেকে ৪০ জনকে দিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।”
তিনি বলেন, “হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জনপ্রতি ৫০০ টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল। ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।”
সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী খান প্রসঙ্গে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, দেশে অবস্থানরত এবং সরাসরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরাই তাদের মূল লক্ষ্য।