প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 20, 2026 ইং
১০৫ মিনিটের প্রতিরোধ ভেঙে স্পেনের বিশ্বজয়, ফেরান তোরেসের গোলে শেষ আর্জেন্টিনার স্বপ্ন

১০৫ মিনিট ধরে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্পেন। কখনও লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত উদ্যোগ, কখনও দানি ওলমোর দূরপাল্লার শট, আবার কখনও ফেরান তোরেসের হেড—প্রতিবারই আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। মনে হচ্ছিল, তার অসাধারণ নৈপুণ্যেই ম্যাচ গড়াবে টাইব্রেকারে।
কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় মাত্র একটি মুহূর্ত। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর উড়িয়ে দেওয়া বলে দূরের পোস্টে নিকো উইলিয়ামস হেডে বল নামিয়ে দেন ফাঁকা জায়গায়। সেখানে অপেক্ষায় থাকা ফেরান তোরেস ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। মার্তিনেজ ঝাঁপিয়েও আর দলকে বাঁচাতে পারেননি।
সেই একমাত্র গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। আর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে থেমে যায় আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন।
ফেরান তোরেসের জন্য গোলটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর তার ফিনিশিং নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে। তবে ফাইনালের এই গোলই যেন সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিল। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে বিশ্বকাপ এনে দিয়ে নিজেকেও নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন এই ফরোয়ার্ড।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি স্পেনের হাতে। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ দাপিয়ে বেড়ায় লা রোহা। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও কুকুরেয়ারা বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও দুর্দান্ত পজিশনিং ও একের পর এক সেভে দলকে টিকিয়ে রাখেন মার্তিনেজ।
অন্যদিকে, লিওনেল মেসিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের রক্ষণ। মাঝমাঠে রদ্রির পরিকল্পিত মার্কিংয়ে মেসি স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। পুরো ম্যাচে আক্রমণভাগেও খুব কমই প্রভাব ফেলতে পেরেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফের্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর অতিরিক্ত সময়ে প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলে ভেঙে পড়ে তাদের রক্ষণ।
একটি গোলই বদলে দিয়েছে পুরো ফাইনালের গল্প। ১০৫ মিনিটের প্রতিরোধের পর স্পেনের ধৈর্য ও আধিপত্যের পুরস্কার আসে অতিরিক্ত সময়ে। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল লা রোহা। আর আর্জেন্টিনার জন্য এটি হয়ে রইল এক নীরব ও বেদনাময় সমাপ্তি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭