পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তার অভিযোগ, জেলা প্রশাসক বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানে শুধু বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বসছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলতলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘পঞ্চগড়ের বর্তমান ডিসি সাহেব হচ্ছেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রোগ্রামে তিনি শুধু বিএনপির নেতাদের নিয়ে বসেন। দেশে কি আরেকটা স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে? আমরা এটা হতে দেব না।’
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা জনগণ বা রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে তাদের জায়গা হবে না।
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের বিশেষ বরাদ্দের হিসাবও চেয়েছেন সারজিস। তার দাবি, গত পাঁচ মাসে চারটি বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে এক কোটি টাকার বেশি এলেও এর কোনো বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘এনসিপির সংসদ সদস্যরা তাদের বরাদ্দের হিসাব জনগণের কাছে প্রকাশ করলেও পঞ্চগড়-১ আসনের বরাদ্দের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এই টাকা যদি নেতাকর্মীদের পকেটে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়, আমরা তা হতে দেব না।’
আটোয়ারী উপজেলার একটি খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সারজিস বলেন, ‘৫১ লাখ টাকার প্রকল্পে এত অনিয়ম হয়েছে যে এখন শুধু খালটা খাওয়া বাকি আছে।’
একই পথসভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যদি এই সরকারকে আমরা সংস্কার করতে না পারি, তাহলে পাথরশ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পারব না। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানোর সংস্কৃতিও বন্ধ করা যাবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনের পর যারা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারা এখন অবস্থান বদলেছেন। তার ভাষ্য, যারা আবু সাঈদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সংস্কারের কথা বলেছিলেন, তারা এখন বলছেন, ‘সংস্কারের প্রয়োজন নেই’। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে।
বিএনপির সমালোচনা করেনাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গত দুই বছরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন আসেনি। আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে, ঠিক হয়ে যান।