প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং
মানবতাবিরোধী অপরাধে জিয়া হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফর ট্রাইব্যুনালে

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আদেশ দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্তের সময় তার সঙ্গে ‘জন্ডু’ নামে এক ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য পায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে অনুসন্ধানে ‘জন্ডু’ ছদ্মনাম ব্যবহারকারী ব্যক্তি মোজাফফর হোসেন বলে শনাক্ত হন।
প্রসিকিউশনের দাবি, গত ১৬ বছরে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফফরের বিভিন্ন সময় কথোপকথন হয়েছে। তদন্তে মানবতাবিরোধী অপরাধে মোজাফফরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার দাবি করে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন জানানো হয়। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজন হলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মোজাফফর হোসেনকে মুখোমুখি করেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি পরদিন প্রকাশ্যে আসে। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে বিচার হয় এবং কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে সাজা দেওয়া হয়। মোজাফফর হোসেন তাদের অন্যতম ছিলেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর মোজাফফর জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে কমিশন পান। রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে একীভূত হলে তিনিও সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। সে সময় তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের দাবি, ১৯৯৬ সালে গোপনে দেশে ফেরার পর দীর্ঘদিন তিনি প্রকাশ্যে জীবনযাপন করছিলেন। কললিস্টের সূত্র ধরে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭