প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার নয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

ভারতে একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে এ বিশেষ আদালত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, দেশের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে এনডিএ জোটের সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ‘ঘোর পাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন মোদি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধী দল। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মোদি সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাব ও অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে।
এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রাহুল বলেন, বর্তমান সরকারের সময়েই দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার দলীয়করণ ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের সরকারি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী তিনটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ অথবা বরখাস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
এর আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত এক দশকে এনডিএ সরকারের আমলে ১৫০টির বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় জড়িতদের চূড়ান্ত শাস্তির নজির খুবই কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাহুলের মতে, শুধু ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়ে এ সংকটের সমাধান হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে ভারতের পার্লামেন্টেও অচলাবস্থা চলছে। বিরোধীদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে এসে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি বক্তব্য দিতে হবে। অন্যদিকে সরকারের অভিযোগ, বিরোধীরা অযৌক্তিক শর্ত দিয়ে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭