প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 23, 2026 ইং
শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, দাবি বঙ্গভবন সূত্রের

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে দাবি করেছে স্টার নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুরের মধ্যে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাতে পারেন।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা না-থাকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তার কাছেই শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি সরকারও তার কাছে শপথ নেয়।
গত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি জানালেও বিএনপি তাতে সমর্থন দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে মৌখিকভাবে পদত্যাগ করতে বলা হয়। সে সময় তিনি কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির পরিবারের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষার পর তার স্নায়বিক জটিলতা শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পদত্যাগের পর স্ত্রীসহ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যেতে চান তিনি।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। লন্ডন সফরের সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই কথোপকথনের তথ্য পাওয়ার পর সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দূরত্ব বাড়ে এবং তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তর কিংবা সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭