প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 27, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে পাল্টা আক্রমণ করবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে তেহরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবার ও রোববার রাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনায় অভিযান চালায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড—সেন্টকোম। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায়নি ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
তবে এর আগে টানা ১৩ রাত দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়।
রয়টার্সকে ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করলে ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তবে সংঘাতের বর্তমান পর্যায়ে পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয় তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। কারণ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডসংলগ্ন হওয়ায় অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে পণ্য পরিবহনের জন্য তেহরানকে টোল দিতে হবে।
তবে ইরানের এই শর্তের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র।
এই বিরোধিতার মধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৩ দিনের হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।
সাম্প্রতিক দুই দিনের হামলা বিরতির বিষয়ে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য মাইক ওয়াল্টজ রোববার ফক্স নিউজ সানডেকে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতেই হামলায় বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মাইক ওয়াল্টজ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও কিছুটা সুযোগ দিতে চান। এ কারণেই বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭