
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, প্রায় ৭৭৬ একর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এ শিল্পাঞ্চলে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ প্রকল্প বাংলাদেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজ সেবা দিতে শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও মূলধনী খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দক্ষ জনবল তৈরিতে আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে একটি আধুনিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনের জন্য চীনা অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আনোয়ারায় সিইআইজেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।”
তিনি জানান, প্রায় ৭৭৬ একর বা ৩১৪ দশমিক ৩৯ হেক্টর এলাকাজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
সিইআইজেডে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য ও পানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো উচ্চমূল্যের শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি খাত আরও বৈচিত্র্যময় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রকল্পটির অবস্থানগত সুবিধা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলটি কর্ণফুলী টানেল থেকে প্রায় ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছয় কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শিল্পাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন করিডোর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
বেজার ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান লি চ্যাংগুই। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনকিয়ান।