প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 27, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা বিরতিতে একদিনে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশ

টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত রাখায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় একদিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের শুরুতে একপর্যায়ে এর দাম ৯০ ডলারের নিচেও নেমেছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়।
টানা তিন সপ্তাহ মূল্যবৃদ্ধির পর দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
সংঘাতের প্রভাব লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডেসহ বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমকে জানান, কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য আরও সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানে মার্কিন হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে যেতে পারে—এমন আশাবাদ বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও স্পষ্টতা রেখে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়া ইতিবাচক সূচনা হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
তবে হামলা বন্ধ থাকলেও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।
এদিকে রোববার ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে যায়। তবে চীনের একটি সুপারট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
এমএসটি মারকুইয়ের বিশ্লেষক সাউল কাভোনিকের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাড়লেও তা ধীরে ধীরে ও আংশিকভাবে স্বাভাবিক হবে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি এখনো সতর্ক রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরও আস্থা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিগুলো খালি জাহাজ প্রণালিতে পাঠাতে অনাগ্রহী থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭