
পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষ্য, যারা আগে ঘুষ নিতেন, তাদের অনেকে এখনো একই কাজ করছেন। এ অবস্থায় জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সার্কিট হাউসে ডিএফপি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমার পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় দেখছি, দেশে কিছুই বদলায়নি। যারা একইভাবে ঘুষ খেত, তারা এখনো ঘুষ খায়। তাই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে।”
তিনি বলেন, পরিবর্তনের একটি নজির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী নতুন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা করছেন। সবাই মিলে সেই উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে পারলে দেশে পরিবর্তন আসতে পারে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই একটি ভারাক্রান্ত পরিবেশ তৈরি হয়। মূল বিষয় হলো, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।
তিনি বলেন, পরিবর্তন একটি চলমান ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিবর্তন আনা ভিন্ন বিষয়।
ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৪৭ সালের আগে ও পরে বহু আন্দোলন হয়েছে, অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন এসেছে এবং একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এরপরও আমাদের বারবার একই কথা বলতে হয়েছে—আমরা পরিবর্তন চাই।”
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। চীন ও সিঙ্গাপুর প্রায় কাছাকাছি সময়ে স্বাধীনতা পেলেও অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানে তারা অনেক দূর এগিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যখনই পরিবর্তনের দাবি উঠেছে, তখনই মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত এ ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।
ক্ষমতার চেয়ারের একটি নিজস্ব ‘কেমিস্ট্রি’ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেকের চিন্তাভাবনা বদলে যায়। জুলাই আন্দোলনের তরুণেরা এ অবস্থারই পরিবর্তন চেয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সমাবেশের সময় তিনি তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণেরা প্রথমে নিজেদের দাবি নিয়ে রাজপথে নামেন। পরে সেই আন্দোলন সামগ্রিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়।
জুলাইয়ের পরিবর্তনের জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত ও তাদের স্বজনদের অশ্রু বৃথা যাবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম, সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।