প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং
ধামা ইলিয়াছের তথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার: এসপি মাসুদ

চট্টগ্রামে আলোচিত একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯), শামীম (২৮), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং সাফায়েত হোসেন (২৪)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতিতে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, সহযোগী এবং অস্ত্রের মজুত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য, ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ২১টি মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।
রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন পুলিশ সুপার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা অস্ত্রের উৎস, অর্থায়ন এবং চক্রটির পুরো নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭