প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 1, 2026 ইং
হাওরের জন্য আসছে শীতসহনশীল ‘ব্রি ধান-১১৮’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন ও প্রতিকূলতাসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য ‘ব্রি ধান-১১৮’ নামে একটি শীতসহনশীল জাত অবমুক্ত করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, নতুন জাতটি আগাম রোপণ ও কাটার সুযোগ দেবে। এতে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা আসার আগেই কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
শনিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা প্রতিকূল আবহাওয়াসহিষ্ণু ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামী বছর লবণাক্ততাসহিষ্ণু আরও একটি ধানের জাত অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
কুমিল্লায় মাছের একটি ‘ল্যান্ডিং স্টেশন’ বা অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সরকারি জমি পাওয়া গেলে কেন্দ্রটি স্থাপনে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশে মিঠাপানির তাজা মাছের চাহিদা বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাছের আধুনিক বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ অবকাঠামো তৈরিতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির টিকার আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে ব্যাপক পরিমাণে ভ্যাকসিন উৎপাদন সম্ভব হবে।
চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর এ কার্যক্রমের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দুর্গত এলাকায় বিনামূল্যে ধানবীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বন্যার পর গবাদিপশুর রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেওয়া হয়েছে প্রতিষেধক টিকাও।
মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ আঞ্চলিক দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭