প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 2, 2026 ইং
চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট সাহেদের এক বছরের কারাদণ্ড

২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামের আদালতে তাকে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বলেন, গত ৩ মে আসামির অনুপস্থিতিতে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। রোববার ওই মামলায় তাকে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তিনি বলেন, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের ১৬ জুলাই বাদী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলা সম্পর্কে আসামিপক্ষ অবগত থাকলেও চেক ডিজঅনারের মামলার বিষয়ে জানত না। এ কারণে সাহেদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবী আরও জানান, রোববার এ মামলায় সাহেদের জামিন চাওয়া হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাহেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, বাহার ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন বাহার ২০২০ সালের ২৬ জুলাই সাহেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য বাদীর সঙ্গে সাহেদের চুক্তি হয়েছিল। শুরুতে কিছু অর্থ নগদে পরিশোধ করলেও বাকি অর্থের জন্য তিনি চেক দেন।
নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বাবদ ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর উত্তরা ব্যাংকের নবাবপুর শাখার ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ৫ মে চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
এরপর একই বছরের ২ জুন চেকের অর্থ পরিশোধের জন্য সাহেদকে এক মাসের সময় দিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় ২৬ জুলাই মামলাটি করা হয়।
এর আগে গত ৩০ জুলাই প্রতারণার একটি মামলায় বাদীর সঙ্গে আপসের শর্তে পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় ১০ দিনের জামিন পেয়েছিলেন সাহেদ।
গত ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা-পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অস্ত্র, প্রতারণা ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫টির বেশি মামলা রয়েছে। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়ে প্রায় চার বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারামুক্ত হন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭