প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 3, 2026 ইং
তেলের দরপতন ও দুর্বল ডলারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

ইরানের ওপর সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম বেড়েছে।
লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৭৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪ ডলারে পৌঁছায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত কিংবা নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি। দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
এদিকে জাপানি ইয়েনকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাবাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ডলারের দরপতনে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে ডলারে লেনদেন হওয়া স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এর প্রভাবেই স্বর্ণের দাম বেড়েছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণ ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শুরু করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক অনিশ্চয়তা এবং তেলের বাজারের ওঠানামার কারণে এর ঊর্ধ্বগতি এখনো কিছুটা সীমিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই স্বর্ণের বাজার চাপের মধ্যে ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হয়। স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে এতে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ স্বর্ণ ধরে রাখলে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
গত সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়া তিন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, দ্রুত সুদের হার বাড়ানো না হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই থাকতে পারে।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে চাকরির শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য, এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্বের আবেদন এবং বহুল আলোচিত ‘নন-ফার্ম পে-রোলস’ তথ্য রয়েছে। এসব প্রতিবেদনের ওপর স্বর্ণের বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
টিম ওয়াটারারের মতে, তেলের বাজার আরও স্থিতিশীল ও নিম্নমুখী হলে, ডলার দুর্বল থাকলে কিংবা সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে ফেড নমনীয় বার্তা দিলে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হলে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান তথ্য শক্তিশালী হলে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি থেমে যেতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। সোমবার স্পট সিলভারের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭