প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 4, 2026 ইং
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পৃথক স্থানে অবস্থান নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শিরোনামে দিনব্যাপী একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ছাত্রশিবির। সেখানে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং)’ বিষয়ক একটি ছবি প্রদর্শন করা হয়। ছবিটি নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আপত্তি তুললে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিক মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ছাত্রশিবিরের কর্মী মেহেদীও পিঠে আঘাত পেয়েছেন। আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্য আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন জায়গায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনা নিয়ে দুই সংগঠন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। ছাত্রশিবিরের দাবি, প্রদর্শনীর কোনো ছবি নিয়ে আপত্তি থাকলে বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান করা যেত অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো যেত। কিন্তু আলোচনার সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
ছাত্রদলের ভাষ্য, ক্যাম্পাসে ‘রাজাকারের ব্যানার’ টানানো হয়েছিল। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের সহসভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত করা হয়। ছাত্রশিবির এ ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সহিংস রাজনীতির সূচনা করেছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা যায়, সংঘর্ষ থামার পরও ক্যাম্পাসে কয়েক দফা উত্তেজনা দেখা দেয়। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানিয়েছেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে শনাক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘যারা এই সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭