প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 6, 2026 ইং
দর্শনার্থীদের জন্য খুলল জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে দর্শনার্থীরা নির্ধারিত সময় ও টিকিটের মাধ্যমে জাদুঘরটি পরিদর্শন করতে পারবেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিন কেবল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক বা স্লটভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আগ্রহীদের ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে পছন্দের সময় নির্বাচন করতে হবে।
প্রতিদিন তিনটি নির্ধারিত স্লটে মূল ভবন পরিদর্শন করা যাবে। প্রথম স্লট সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দ্বিতীয় স্লট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং তৃতীয় স্লট বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
নির্ধারিত স্লটে মূল ভবন পরিদর্শন শেষে দর্শনার্থীরা জাদুঘরের প্রাঙ্গণ, পুকুরপাড় ও ক্যাফেটেরিয়ায় সময় কাটাতে পারবেন। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় নির্বাচন করা যাবে।
প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনলাইন বা অফলাইনে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগের দলিল, গুম ও নির্যাতনসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য এবং প্রতীকী কবর স্থান পেয়েছে।
এ ছাড়া বিগত দেড় দশকের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং গুম ও নির্যাতনসংক্রান্ত তথ্যচিত্র ও ঐতিহাসিক দলিল রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতীকী কবর নির্মাণ করা হয়েছে। আন্দোলনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তও ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানোর দৃশ্য এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের প্রতীকী ভাস্কর্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭