
দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের সুবিধা দেবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, স্বৈরাচারের দোসররা এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এ কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই কোনো ব্যক্তি বা দলের একার নয়; এটি বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণ বা অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা গণতন্ত্রকামী শক্তির মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সবচেয়ে বেশি নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাসের পর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জুলাইযোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের দাবি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী টাঙ্গাইলের প্রত্যেক জুলাইযোদ্ধার বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়ে টুকু বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনা ধারণ করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিন।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য বক্তব্য দেন। পরে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।