
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয়ের নাম বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভিন্নমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ আয়োজিত পৃথক সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ১১টায় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের এমবিএ ভবনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণতন্ত্রায়ণের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আল আমিন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত এবং এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে গণঅভ্যুত্থানে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থী আহসান কবিরের বাবা মাস্টার হুমায়ুন কবির বক্তব্য দেন। আন্দোলনে আহত অনুষদের শিক্ষার্থীরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন।
উপাচার্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, ফ্যাসিবাদী শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিরোধী ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। জনগণের মতামত উপেক্ষা, ভিন্নমত দমন ও কুশাসনের মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমত দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত করার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন আশা দেখিয়েছে। সংকটময় সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল।
নতুন বাংলাদেশ গড়তে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।