প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 10, 2026 ইং
জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবসে আলোচনা ও জননীর জন্য পদযাত্রা

জানুয়ারী মাস সারাবিশ্বে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে উদযাপন করা হয়। বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে জানুয়ারীর দ্বিতীয় শনিবারকে বেসরকারিভাবে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) ‘মার্চ ফর মাদার’ মোর্চার উদ্যোগে কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্ট ও ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি, বাংলাদেশের আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা ও জননীর জন্য পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জননীর জন্য পদযাত্রার প্রধান সমন্বয়কারী ও গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম আখতার।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো রোগে আক্রান্তের হার প্রতি এক লাখে চারজনের নিচে নামিয়ে আনতে পারলে সেটিকে ‘এলিমিনেশন’ বা নির্মূল বলা যায়। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই লক্ষ্য অর্জনে টিকাদান, স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে কার্যকর করা প্রয়োজন।
তিনি এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, গত বছর দেশের ১০–১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে এক ডোজ এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়েছে এবং চলতি বছর থেকে ১০ বছর বয়সী বা পঞ্চম শ্রেণির কিশোরীদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে। তবে স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা, বিশেষ করে বিকিরণ চিকিৎসার জন্য এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম এবং গাইনাকোলজিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ও কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাবেরা খাতুন।
অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রতি ১০০ জন রোগীর মধ্যে মাত্র ৩০ জনের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়। বাকি ৭০ শতাংশ রোগীর জন্য রেডিওথেরাপি অপরিহার্য হলেও দেশে এই সেবার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়াতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. হালিদা হানুম আখতার জানান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৬৮টি শাখায় পর্যায়ক্রমে ক্যান্সার সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি, বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহবুব শওকত, চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হাকিম মজুমদার ও লেখক আসিফ হাসান নবী।
আলোচনা সভা শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মগবাজার চৌরাস্তা পর্যন্ত ‘জননীর জন্য পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭