প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 17, 2026 ইং
ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৩ হাজারের বেশি: এইচআরএএনএ

ইরানজুড়ে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা যাচাই করে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করার দাবি করেছে, যাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জনই বিক্ষোভকারী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, টানা আট দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর ইরানে সীমিত আকারে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে এসেছে। তবে নেটব্লকসের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রা মাত্র ২ শতাংশের মতো।
দেশটির বাসিন্দারা বলছেন, আপাতত বিক্ষোভ অনেকটাই থেমে গেছে বলে মনে হচ্ছে। যদিও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আরও অনেককে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা তেহরানের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত চার দিন ধরে রাজধানী তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। শহরের আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বড় কোনো বিক্ষোভের চিহ্ন দেখা যায়নি। একই চিত্র দেখা গেছে কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শহরেও।
গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই সরকার ও মোল্লাতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে ইরানের শাসকগোষ্ঠী কঠোর দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়।
সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী দাবি করেছে, বিক্ষোভে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরানে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, “নির্ধারিত সব ফাঁসি (৮০০-র বেশি), যেগুলো গতকাল হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো ইরানের নেতারা যে বাতিল করেছেন তাকে গভীর সম্মান জানাচ্ছি।তবে ইরান সরকার এ ধরনের কোনো মৃত্যুদণ্ডের পরিকল্পনা বা তা বাতিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
বিক্ষোভকালীন সময় ইরান দেশটি থেকে ফেরা ভারতীয় শিক্ষার্থী ও পুণ্যার্থীরা বলছেন, বিক্ষোভের ওই দিনগুলোতে বেশিরভাগ সময় তারা তাদের ঘরেই ছিলেন, তবে ইন্টারনেট না থাকায় তারা দেশে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।
তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী জেড সাইয়েদা বলেন, “আমরা সহিংস বিক্ষোভের নানান কাহিনী শুনতাম, একদিন জ্বলন্ত এক ব্যাটন ধরা এক লোক আমাদের গাড়ির সামনে লাফিয়ে পড়েছিল, এরপর তিনি স্থানীয় ভাষায় চিৎকার করে কী কী সব বলেন, তার চোখে রাগ দেখা যাচ্ছিল,”
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭