প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 22, 2026 ইং
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলবে: ড. আলী রীয়াজ

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিলে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, “‘হ্যাঁ’-এর প্রার্থী কেউ একজন নন—আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ ‘হ্যাঁ’ আমাদের উপহার দেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ।”
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, “এ জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন ও দুঃশাসন চায় না। মানুষ চায় এমন একটি আলোকিত আগামী, যেখানে গুম, গায়েবি মামলা কিংবা নিপীড়নের ভয় থাকবে না। যে স্বপ্ন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জীবন দিয়েছে, সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন, যা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। সনদ বাস্তবায়নে জনগণের সরাসরি সম্মতির জন্যই এই গণভোটের আয়োজন।
‘হ্যাঁ’ ভোটের তাৎপর্য তুলে ধরে ড. আলী রীয়াজ বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল যৌথভাবে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনে জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ফলে বিচারের বাণী আর নিরবে নিভৃতে কাঁদবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন,গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানের দুর্বলতাকে পুঁজি করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ৫৪ বছর আগে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমাদের পূর্বসূরীরা যে স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ১৬ বছরে দেশ থেকে প্রায় সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশের উন্নয়নে ব্যয় হতে পারত। লুটপাট বন্ধ করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ হেলালী, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হকসহ অন্যান্যরা। মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭