
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা উজ্জ্বল ও অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে তাদের আচরণ, পেশাদারিত্ব ও চারিত্রিক গুণাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শনিবার,বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য শীতলক্ষ্যা নদী হয়ে মেঘনা নদীতে গিয়ে পড়ছে,যা ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। গবেষণায় ইলিশের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, লেড ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নদী দূষণমুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অপরিহার্য।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয় শুধু গরু, ছাগল বা হাঁস-মুরগির সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়; কুকুর-বিড়ালসহ সকল প্রাণীর সুরক্ষার দায়িত্বও এর আওতায় পড়ে। কুকুরের সঠিক ভ্যাকসিনেশন না হলে জলাতঙ্কসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট কার্নিভালে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেক তরুণ-তরুণী ভুলভাবে মনে করে ধূমপান করলে তারা স্মার্ট বা ফ্যাশনেবল দেখাবে, অথচ এটি হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের কারণ। তিনি জানান, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি প্রণীত আইন সকলের জন্য বাধ্যতামূলক।
দেশের সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশ কোনো গরিব দেশ নয়। দেশের মানুষের দক্ষতা, প্রাকৃতিক সম্পদ, সুপেয় পানি, বীজ ও জেনেটিক রিসোর্সই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ভবিষ্যতে বিশ্বসংঘাত পানি, বীজ বা প্রাকৃতিক সম্পদকেন্দ্রিক হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এ কারণে তরুণ প্রজন্মের ওপর দেশের নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার বড় দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. রেজাউল করিম। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। এছাড়া বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বক্তব্য দেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ২ হাজার ৯৬ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি লাভ করেন। অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ছয়জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড এবং নয়জন শিক্ষার্থীকে ভাইস-চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।