প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 26, 2026 ইং
চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের গমের চালানকে স্বাগত জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন উচ্চমানের গমের একটি চালানকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার।
আমদানি করা এই গমের চালানটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসা মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি গম সরবরাহের একটি অংশ। এর মধ্যে ওয়াশিংটন, ওরেগন ও আইডাহো অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সফট হোয়াইট জাতের গম এবং মনটানা ও নেব্রাস্কা থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন হার্ড রেড উইন্টার জাতের গম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ বছরে মোট গমের চাহিদার মাত্র প্রায় ১৩ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম হওয়ায় এ ধরনের আমদানিকৃত চালান দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ এসব গম দেশের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ যে একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ বাজার—এই চালানগুলো তারই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ মনোনীত গমচাষিদের বাণিজ্য সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটস (ইউএসডব্লিউএ)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৭ লাখ মেট্রিক টন যুক্তরাষ্ট্রের গম আমদানি করবে।
এই সমঝোতার আওতায় আন্তর্জাতিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্পের মাধ্যমে তিনটি বিক্রয় চুক্তিতে বাংলাদেশ আনুমানিক ৬ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন গম ক্রয় করেছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি গম ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের জন্য পুষ্টিকর গমের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭