প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 1, 2026 ইং
তুষারঝড়ের কবলে বিপর্যস্থ যুক্তরাষ্ট্র,৩৮ জনের মৃত্যু

ক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের তাণ্ডব অব্যাহত। সোমবারও দেশের বড় অংশে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমেছে।
ভারী তুষারপাত ও বরফাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় রাত কাটিয়েছে । বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস(এপি)-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র শীত ও দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আরকানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ মাইল দীর্ঘ এলাকায় এক ফুটের বেশি তুষার জমেছে। কোথাও কোথাও তুষারের উচ্চতা ছাড়িয়েছে ২০ ইঞ্চি (৫০ সেন্টিমিটার)।
পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গের উত্তরের এলাকাগুলোতে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (মাইনাস ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত শীতল অনুভূত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এই প্রবল তুষারপাত ও বরফের কারণে সড়ক যোগাযোগ প্রায় অচল হয়ে পড়ে, ব্যাপকভাবে ফ্লাইট বাতিল হয় এবং বহু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় এই তীব্র শীত দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। বরং নতুন করে আর্কটিক বাতাস ঢুকে পড়ায় বরফ ও তুষারঢাকা এলাকাগুলোতে আরও কয়েক দিন হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা থাকতে পারে। এমনকি সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে আরেকটি শীতকালীন ঝড় আঘাত হানার আশঙ্কাও রয়েছে।
মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ম্যাসাচুসেটস ও ওহাইওতে তুষার সরানোর গাড়ির নিচে চাপা পড়ে দুজনের মৃত্যু, আরকানসাস ও টেক্সাসে স্লেজিং দুর্ঘটনায় কিশোরদের প্রাণহানি হয়েছে । কানসাসে একটি বারের কাছ থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর বরফে ঢাকা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার। নিউইয়র্ক সিটিতে কেবল এই শীতল সপ্তাহান্তেই খোলা জায়গা থেকে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এদিকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন বলে জানিয়েছে পাওয়ারআউটেজ ডটকম।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চল, যেখানে সপ্তাহান্তে জমাট বৃষ্টির কারণে গাছের ডাল ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে।
বিশেষ করে উত্তর মিসিসিপি ও টেনেসির কিছু অংশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যুৎ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।মিসিসিপিতে ১৯৯৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বরফঝড়ের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
গভর্নর টেট রিভস জানান, অন্তত ১৪টি বাড়ি, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ২০টি সরকারি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ওয়ার্মিং সেন্টারে খাট, কম্বল, বিশুদ্ধ পানি ও জেনারেটর পাঠানো হচ্ছে। বরফে ঢাকা অবস্থায় থাকা অক্সফোর্ড ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ না থাকায় মিসিসিপি ইউনিভার্সিটি পুরো সপ্তাহের জন্য ক্লাস বাতিল করেছে। অক্সফোর্ডের মেয়র রবিন ট্যানিহিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এত বেশি গাছ, ডাল ও বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়েছে যে 'মনে হচ্ছে প্রতিটি রাস্তায় যেন টর্নেডো বয়ে গেছে।'
পরিস্থিতির সহসা উন্নতির আশ্বাস দিতে পারছে না দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।এ ছাড়াও এর প্রভাবে চলতি সপ্তাহে দেশজুড়ে ১৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭