
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার নতুন নেতারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা গড়ার দিকে এগিয়ে আসছেন, তাই বর্তমানে সেখানে আরও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
চলতি জানুয়ারির প্রথমদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন রুবিও, সে সময়ই এসব কথা জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনকে ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, রদ্রিগেজ সরকার মার্কিন দাবি মেনে না চললে দেশটির বিরুদ্ধে ফের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ মিত্র রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।ফ্লোরিডার সাবেক সেনেটর ও মার্কিন সেনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির সাবেক সদস্য রুবিও সেনেটের জনাকীর্ণ এক শুনানি রুমে বলেন, ট্রাম্প কোনো বিকল্পই বাতিল করেননি।
“আমরা ভেনেজুয়েলায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত না, আমাদের এমন কিছু করার উদ্দেশ্য নেই বা প্রত্যাশাও করি না,” বলেছেন তিনি।
রয়টার্স লিখেছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় রদ্রিগেজকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সন্তুষ্টির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রুবিও বলেন, ''আপনি দেখবেন ভেনেজুয়েলায় আমাদের সামরিক উপস্থিতি থাকবে শুধু একটি দূতাবাসে, আমাদের মেরিন রক্ষীরা। এটাই আমাদের লক্ষ্য। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।''
তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ 'অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ও ফলপ্রসূ ছিল'।
যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় কূটনৈতিক উপস্থিতি শুরু করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ আছে।
তবে সেখানে ফের দূতাবাস খোলার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে।
সেনেট কমিটিকে রুবিও বলেন, ''২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের উপস্থিতি কমানো ও নির্মূল করার জন্য, পাশাপাশি চীনের প্রভাব, রাশিয়ার প্রভাব কমানোর বিষয়ে আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চালাচ্ছি।
আসলে, আমি আপনাদের বলছি, ভেনেজুয়েলায় বহু পক্ষ আছে যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের সম্পর্ক স্থাপনকে স্বাগত জানাবে।''
তবে রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করে ট্রাম্প প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন কি না, তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা এক প্রতিবেদনে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সেনেটের কমিটির সামনে দেওয়া সাক্ষ্যে রুবিও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের পরিচালনার একটি ঘাঁটি হয়ে উঠেছিল,
তাই মাদুরোকে সরানো দরকার হয়ে পড়েছিল। আর মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে তার (মাদুরোর) কথিত সহযোগিতা পশ্চিম গোলার্ধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।
''এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া মতো ছিল না আর এর সমাধান করা প্রয়োজন ছিল,''বলেছেন তিনি।
বুধবার রুবিও পরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ভেনেজুয়েলার নেতা হিসেবে ট্রাম্প, মাদুরোর স্থলে মাচাদোকে বসাবেন কি না, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাওয়ার মধ্যেই তাদের এ সাক্ষাৎ হয়।