
মামা-চাচা, ঘুষ ও আত্মীয়স্বজনের প্রভাব ছাড়াই চাকরি নিশ্চিত করতে চাইলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে এনসিপি আয়োজিত নির্বাচনী পদযাত্রার জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, যদি বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত না হতে চান, তাহলে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিন। যদি শেখ হাসিনার মতো ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার না দেখতে চান; যে আপনাদের সন্তানদের রক্ত ঝড়িয়েছে, তাহলো গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিন।
চাকরি ও সুশাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘুষ ও মামা-চাচা ছাড়া চাকরি পেতে চাইলে, ব্যাংকে রাখা আমানত নিরাপদ রাখতে চাইলে এবং ব্যাংক লুটেরাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে চাইলে হ্যাঁ ভোট দিন। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অর্থপাচার বন্ধ করতে চাইলে হ্যাঁ ভোটই একমাত্র পথ।’
নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। যারা নারীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, ১১ দলীয় জোট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে, ইনশাআল্লাহ।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বরাবরই অগ্রভাগে ছিল। এই জেলা বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদান জাতি আজীবন স্মরণ করবে। অথচ অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকার এই জেলাকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার করেছে।’
আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, যারা বিগত সময়ে বারবার কথা দিয়ে কথা রাখেনি, আমরা তাদের মতো হবো না। আমরা ইতোপূর্বেও কথা দিয়ে কথা রেখেছি। আমরা রক্ত দিয়ে হলেও আমাদের কমিটমেন্ট রক্ষা করেছি। সামনের দিনেও তা অব্যাহত রাখব।
আলেম-ওলামাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য জীবন দিতে আলেম সমাজ কখনো পিছপা হয়নি। অথচ তাদের নানা ট্যাগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, আলেম-ওলামাদের পিছনে রেখে বাংলাদেশ এগোতে পারে না।’ তিনি আরও জানান, আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে কওমী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা, ইসলামি গবেষণা, ব্যাংকিং, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
নির্বাচনী পদযাত্রার শেষ পর্যায়ে আসিফ মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগরের ৮ ইউনিয়ন) আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মো. আতাউল্লাহকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরেন।
নির্বাচনী পদযাত্রায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফী, এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাসিন হাসান, খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মো. আলী এবং এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদস্য সচিব আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।