প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 1, 2026 ইং
দেশ কোন পথে যাবে, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই নির্ধারণ করবে: তারেক রহমান

একটি মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় ভোট বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে জনগণকে আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশ কোন দিকে এগোবে তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই নির্ধারণ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তাএসময় রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লবকে টেকসই করতে ১০০০ কোটি টাকার থমকে যাওয়া পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। একইসাথে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে সুদূর পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে গৃহীত বৃহৎ সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিতে বিপ্লব এনেছিল। অথচ গত ১৬ বছরে পদ্মা নদীকেন্দ্রিক এই গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্পটি পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে, যা আজ প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই ঐতিহাসিক প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের কৃষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, আর কৃষক হাসলে হাসবে বাংলাদেশ। তিনি আশ্বাস দেন, উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তরে সেচের পানি পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার কাজ করবে।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষীদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই। আমরা ক্ষমতায় গেলে আমের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ বা গুদাম তৈরি করব। এতে চাষীরা মৌসুমে আম পচে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তি পাবেন এবং নায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এই সেতু উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণাও দেন তিনি। এ কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে জানান তিনি।
২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের জনসভা (সশরীরে বা ভার্চুয়ালি উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে) নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারেক রহমান বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি।’
জনসভায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। এতে পুরো রাজশাহী মহানগরী এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭