প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 1, 2026 ইং
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩: ‘সাঁতাও’–র কাহিনী, স্বীকৃতি ও সংগ্রাম

কোনো নামী তারকা বা বড় প্রযোজনা সংস্থার সমর্থন না থাকলেও দীর্ঘ লড়াই, অবহেলা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাতীয় স্বীকৃতির শীর্ষে পৌঁছেছে স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র ‘সাঁতাও’। ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এটি সেরা সিনেমা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
ছবির পরিচালক খন্দকার সুমন সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান, আর ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য আইনুন পুতুল প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৬ সালে রংপুর অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও সংকটের গল্প নিয়ে ‘সাঁতাও’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন লালমনিরহাটের খন্দকার সুমন। পরিচিত তারকা ছাড়াই বাস্তবধর্মী সিনেমা নির্মাণের কঠিন পথ বেছে নেন তিনি।
গণ–অর্থায়ন ও প্রচার:
কোনো প্রযোজক এগিয়ে না আসায় সাধারণ মানুষের সহায়তায় সিনেমা তৈরি হয়। ১০০ থেকে ৫ হাজার টাকার ছোট ছোট অনুদানই ধীরে ধীরে ছবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। মুক্তির সময়ও সমস্যার শেষ ছিল না—সেন্সর ছাড়পত্র পেতে সরকারি জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মাধ্যমে হস্তক্ষেপে তা সমাধান হয়।
প্রদর্শন ও প্রচার:
কথিত তারকা না থাকায় শুরুতে সিনেমা হল পাওয়া কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁতাও’ পুরস্কৃত হওয়ায় ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রংপুরে প্রদর্শিত হয়। প্রচারেও বাজেট নয়, নির্মাতা ও শিল্পীরা নিজেরাই রাস্তায় নেমে পোস্টার লাগানো ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছান।
সিনেমার বিষয়বস্তু:
‘সাঁতাও’ নাম এসেছে রংপুর অঞ্চলের টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ থেকে। গল্প আবর্তিত হয়েছে কৃষকের সংগ্রাম, নারীর মাতৃত্বের অনুভব ও প্রান্তিক মানুষের সুখ–দুঃখ, হাসি–কান্নার মধ্যে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল ও ফজলুল হক।
দেশ–বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত ‘সাঁতাও’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ যাত্রার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭