প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 1, 2026 ইং
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি জকোভিচ-আলকারেজ।

আজ অস্টেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি হবেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জকোভিচ ও স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারেজ ।
যেখানে সার্বিয়ান তারকা জকোভিচের সামনে তাঁর পঁচিশতম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের হাতছানি; যা তাঁকে পৌঁছে দেবে টেনিসে নারী ও পুরুষ এককের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের ইতিহাসে। ভেঙে দিতে পারবেন ২৪ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী নারী টেনিস তারকা মার্গারেট কোর্টের রেকর্ডটি। স্প্যানিশ তারকা আলকারাজের সামনে ক্যারিয়ারে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে চারটি ভিন্ন গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের সুযোগ ।
দুজনই বড্ড ক্লান্ত। সেমিফাইনালে ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের ম্যারাথন ম্যাচ জিতে বত্রিশ ঘণ্টার মতো বিশ্রাম পেয়েছেন কার্লোস আলকারাজ। বছর আটত্রিশের নোভাক জকোভিচ সেমিতে মহাকাব্যিক ম্যাচটি লড়েছিলেন ৫ ঘণ্টা ১২ মিনিটে। সিনারকে হারিয়ে তিনি বিশ্রাম পেয়েছেন চব্বিশ ঘণ্টার একটু বেশি।
বিশ্লেষকদের ধারণা ফাইনালে সেই জয়ী হবেন যিনি ফিটনেসে এগিয়ে থাকবেন। এই মুহূর্তে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আলকারাজের জন্য জকোভিচকে হারানোটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। কেননা ইতিহাস বলছে মেলবোর্নের এই রড লেভার অ্যারেনায় ফাইনালে কখনোই হারেননি জকোভিচ। এর আগে দশবার তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন তাঁর প্রতিবারই শিরোপা স্পর্শ করে কোর্ট ছেড়েছেন। সেখানে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের হার্ডকোটে আলকারাজের সেরা সাফল্য ছিল দুইবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা।
অনেকেই আজকের এই ফাইনালটিকে দুই প্রজন্মের লড়াই হিসেবে দেখছেন। দুজনের মুখোমুখি দেখায় এ পর্যন্ত ৯ বারের মধ্যে পাঁচবারই জিতেছেন জকোভিচ। তবে গ্র্যান্ড স্লামের ম্যাচে এগিয়ে আলকারাজ। সেখানে তিনি এগিয়ে ৩-২ ব্যবধানে।
ষোলো বছরের ছোট আলকারাজ জকোভিচকে হারিয়েছিলেন ২০২৪ সালে উইম্বল্ডন ফাইনালে। 'বদলা' শব্দটিতে আপত্তি আছে জকোভিচের, তবে আজকের ম্যাচটি জিতলে সেদিনের সেই হারের স্মৃতি অন্তত ভুলতে পারবেন তিনি।
ফেদেরার ও নাদাল যুগের প্রতিনিধি হিসেবে এখনও কোর্টে সক্রিয় জকোভিচ। তবে গত পাঁচ বছরে তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন নাদাল-পরবর্তী স্প্যানিশ তারকা আলকারাজ। নাদালের মতোই প্রচণ্ড গতি আর সার্ভিস পাওয়ার আছে আলকারাজের মধ্যে।
২০২২ সালে দুজনের প্রথম দেখা হয় মাদ্রিদ ওপেনে। সর্বশেষ গত বছরের ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে দেখা হয়েছিল দুজনের; যেখানে জকোভিচের চেয়ে আলকারাজকে খুব বেশি শক্তিশালী মনে হয়েছিল। ম্যাচ জিতেছিল ৬-৪, ৭-৬ (৭-৪), ৬-২ গেমে।
আজকের ফাইনালে রাফায়েল নাদালের বাজি আলকারাজের পক্ষে। এটা শুধু তাঁর স্বদেশি বলে নয়, বয়সের কারণেও। 'আমি মনে করি কার্লোস ফেভারিট। সে বয়সে তরুণ, তার মধ্যে প্রচুর শক্তি আছে এবং সে এখন তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে রয়েছে। কথা হচ্ছে নোভাক তো নোভাকই। আমার মতে সে একনিষ্ঠতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতায় সবার চেয়ে এগিয়ে।
খুব স্বাভাবিক কারণেই নোভাক এখন তার সেরা সময়ে নেই। এই বয়সেও সে অবিশ্বাস্য রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টেনিস খেলছে; যা সচরাচর দেখা যায় না। তাই তার প্রতি পূর্ণ সম্মান আমার।'
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭