
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিতর্কিত পোস্টটি একটি পরিকল্পিত সাইবার হ্যাকিংয়ের ফল বলে দাবি করেছে দলটি।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সাইবার টিম সদস্যরা পোস্ট প্রকাশ, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, ই-মেইল নোটিফিকেশন এবং অ্যাকাউন্ট রিকভারির নির্দিষ্ট টাইমলাইন তুলে ধরে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
সাইবার টিমের সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, বিতর্কিত পোস্টটি ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে প্রকাশিত হয়। ওই সময় জামায়াত আমির ঢাকার কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা এলাকায় একটি নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময়কার ভিডিও ফুটেজ ও স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পোস্টটি নজরে আসার পর বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে এক্স কর্তৃপক্ষ থেকে ‘Your password has been changed’ শিরোনামে একটি ই-মেইল আসে। এরপর আগের সব সেশন লগআউট করে নতুন সেশন জেনারেটের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা হয়। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, যদি পোস্টটি নিজে থেকেই দেওয়া হতো, তাহলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, মেইল রিকভারি ও ফরেনসিক ডাটা প্রদর্শনের প্রয়োজন পড়ত না। সাংবাদিকদের সামনে আমিরের অফিসিয়াল ই-মেইল ইনবক্স দেখানো হয়, যেখানে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, নতুন আইপি অ্যাড্রেস ও সেশন পরিবর্তনের তথ্য রয়েছে।
এছাড়া একই দিনে বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের পোস্ট প্রকাশিত হয় বলে জানানো হয়। সময় ও বিষয়বস্তুর মিল থাকায় এটিকে সংঘবদ্ধ সাইবার আক্রমণের অংশ বলে দাবি করে জামায়াত।
দলটি আরও জানায়, গত এক মাসে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিক সাইবার আক্রমণের চেষ্টা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেনের অ্যাকাউন্টেও একই ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাইবার আক্রমণের কৌশল সম্পর্কে জানিয়ে বলা হয়, ‘Case Study BGI Election’সহ বিভিন্ন নামে ভুয়া ই-মেইল পাঠিয়ে অ্যাটাচমেন্টের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ সময় নারীদের বিষয়ে জামায়াত অভিযোগ করে, নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের ওপর হামলা, বোরখা খুলে দেওয়া ও অশালীন আচরণের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে নারীদের ভোটাধিকার নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিতর্কিত পোস্টের মাত্র দুই ঘণ্টা আগেই আমির নারীদের শিক্ষা ও অগ্রগতির পক্ষে একটি ইতিবাচক পোস্ট দিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ফরেনসিক রিপোর্টসহ সব তথ্য ভবিষ্যতে উপস্থাপন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম, সাংবাদিক ওলি উল্লাহ নোমান ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম।