
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
সোমবার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল বিপিএম, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগের কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর, দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন-পূর্ববর্তী চার দিন নিবিড় টহল পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে টহল জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা অনেক, আর সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তাঁদের কাঁধেই।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন একটি মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা দেশীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামান্য ভুল বা বিচ্যুতিও যেন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে—সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন রাখতে হবে, যাতে ভোটাররা আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং বিচারিক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। জেলা পর্যায়ে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা আয়োজনেরও নির্দেশ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নৈতিকতা ও আত্মসম্মান বজায় রেখে সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এসব কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’ ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, কেউ কোনো ধরনের অপতৎপরতার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না।