প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 3, 2026 ইং
পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে পারমাণবিক আলোচনায় বসতে চলছে। আগামী শুক্রবার তুরষ্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে এই আলোচনা বসতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তারা।
সূত্র মতে, এক কুটনৈতিক জানিয়েছেন, এই বৈঠকে সৌদি আরব ও মিশরের মতো দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও আংশ নেবেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ নিরসনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের চেষ্টায় এবং একটি নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করতে ইস্তাম্বুলে এই বৈঠকে বসতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পরারাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। বৈঠকে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরসহ আরও কিছু দেশ উপস্থিত থাকবে। সেখানে দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় ও অন্যান্য বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলার মাঝে এই বৈঠক হতে চলেছে। গত মাসে ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনের পর দেশটির উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভ চলার সময় তাতে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েও পরে তা বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত থেকেছেন। তবে ইরানে আপাতত হস্তক্ষেপ না করলেও তিনি দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিকে পৌঁছার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন।
দ্রুতই চুক্তি না করলে ইরানে আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি তিনি ইতোমধ্যেই দিয়েছেন এবং ইরান উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীও মোতায়েন করে রেখেছেন। তবে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, ''ইরান গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করছে।''
ওদিকে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিও জানিয়েছেন, ''আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।'' ইরানি সূত্রগুলো গত সপ্তাহে রয়টার্সকে জানায়, আলোচনার জন্য ট্রাম্প তিনটি শর্ত দিয়েছেন।
এক. ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা, দুই. ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সিমীত রাখা এবং তিন. আঞ্চলিক ছায়া গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করা।
ইরান দীর্ঘদিন থেকেই এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চেয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টিকেই আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হিসাবে দেখছেন দেশটির ধর্মীয় শাসকরা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ''ইরানের জন্য সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি দ্রুত অন্যায্য সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়।''
অন্যদিকে, আলোচনার আগে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বহর যেন ইরানের উপকূল থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ''এখন বল ট্রাম্পের কোর্টে।''
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭