প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 3, 2026 ইং
নতুন শিক্ষা আইন করছে অন্তর্বতী সরকার

প্রায় দেড় বছর পর অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ করেই শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গনমাধ্যমের রিপোর্ট জানাচ্ছে, মাধ্যমিক শিক্ষা সর্বজনীন করার জোর দাবি থাকলেও, প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণিতেই সীমাবদ্ধ রেখে বাধ্যতামূলক করার কথা হয়েছে। এটি মূলত ১৯৯০ সালের বিদ্যমান আইনেরই পুনরাবৃত্তি।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা আইন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে দেড় দশক ধরে। কিন্তু এখন অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই তাড়াহুড়ো করে আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
মাত্র কয়েক দিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরপর গঠিত হবে নতুন সরকার। এমন পরিস্থিতিতে মতামত নেওয়ার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) আইনের খসড়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
আইনের খসড়ার বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় রাখা হয়েছে মাত্র ছয় দিন, ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যে শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে তিন দিনই সরকারি ছুটি। এমন তাড়াহুড়ো করে আইনটি করলে সেটা শিক্ষার সংস্কার ও উন্নয়নে কাজে আসবে না বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকার কোচিং সেন্টার, সহায়ক পুস্তক (নোট বই) বা গাইড বই (যে নামেই অভিহিত হোক) প্রকাশ ও প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করবে এবং ধারাবাহিকভাবে নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে আইন কার্যকর হওয়ার তিন বা পাঁচ বছরের মধ্যে এসব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেবে।
অথচ ১৯৮০ সালের একটি আইনে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নোট-গাইড নিষিদ্ধ। আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা-বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষা আইন এমন একটি বিষয়, যা সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রভাবিত করবে।
সে ধরনের একটি আইনের জন্য এত অল্প সময় দিয়ে মতামত কেন চাওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭