প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকেরা

সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়ার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। আজ বুধবার তাঁরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, প্রদর্শনী ও মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কূটনীতিকদের জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখান এবং এর ধারণা, প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। পরিদর্শনের শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার দুঃশাসনে নিহত প্রায় চার হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ স্মৃতি জাদুঘর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, “এই জাদুঘরের মূল ভাবনা হলো—যেন এ ধরনের দুঃশাসন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে। এই বার্তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, এই জাদুঘর শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের ৩৬ দিনের গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা দুঃশাসনের নানা উপাদানও প্রদর্শিত হয়েছে। ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা হলো—যাতে একই ভুল আবার না ঘটে।”
জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব কূটনীতিক ও অতিথিদের সামনে বিভিন্ন প্রদর্শনী, নথিপত্র, আলোকচিত্র ও মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, “জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করে আমি আনন্দিত। এটি অনুপ্রেরণাদায়ক এবং ইতিহাস বোঝার গুরুত্বের একটি শক্তিশালী স্মারক। কীভাবে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি কী ছিল—তা বোঝার ক্ষেত্রে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
পরিদর্শনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের মধ্যে ছিলেন ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এডিবি, ইউনেসকো, আইওএম, ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন সংরক্ষণ ও রূপান্তরের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আগামী সপ্তাহে সীমিত পরিসরে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭