প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং
চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক, কার্যত অচল বন্দর কার্যক্রম

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা। বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান DP World–এর কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে বন্দর ভবনের পাশে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ–এর সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।
এর আগে গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন, ফলে বন্দরের অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আমরা কর্মসূচি শিথিল করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আজ ঢাকায় বিডা কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তারা নেগোসিয়েশন কমিটিকে চাপ দিতে উপস্থিত হয়েছেন। এত দিন কনটেইনারপ্রতি চার্জ নিয়ে আলোচনা হলেও এখন রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে অল্প সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”
আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, “ঢাকায় আমাদের কর্মকর্তাদের আটকে রেখে জোর করে চুক্তিতে সই করানোর চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মসূচি শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই। তাই আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
জাহাজ আনা-নেওয়াও বন্ধ
কর্মবিরতির চতুর্থ দিনে মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা বন্দরের মূল জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ফলে আজ মূল জেটিতে নির্ধারিত ছয়টি জাহাজ আনা-নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে পতেঙ্গায় অবস্থিত আরএসজিটি টার্মিনাল ও দুটি বিশেষায়িত জেটিতে তিনটি জাহাজ আনা-নেওয়া হয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে কর্মবিরতির কারণে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো এবং খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জাহাজ আনা-নেওয়া স্বাভাবিক ছিল। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বন্দরের অচলাবস্থা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়ার কাজ পাইলটদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যার জন্য টাগবোটসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক নৌযান ডক অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বন্দর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা ডক অফিসে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা কর্মীদের অফিস থেকে বের করে দিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে পাইলটদের যাতায়াতের জন্য কোনো নৌযান ছাড়ানো সম্ভব হয়নি।
ফলে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জোয়ারের সময় জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে নির্ধারিত ছয়টি জাহাজের কোনোটিই আনা-নেওয়া করা যায়নি।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে এই অচলাবস্থা দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭