প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং
বন্দরের চুক্তি বাতিল ঘিরে চীন–পানামা উত্তেজনা

পানামা খালের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বন্দরের পরিচালন চুক্তি বাতিলকে কেন্দ্র করে চীন ও পানামার মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন চাপের মুখে পানামার সর্বোচ্চ আদালত চীনা প্রতিষ্ঠান CK Hutchison–এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পানামা সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিকে হাচিসন।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সিকে হাচিসন জানায়, পানামার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা আন্তর্জাতিক আইনি পথে লড়াই করবে। একই দিনে চীনা সরকারের হংকং ও ম্যাকাও বিষয়ক দপ্তর এই রায়কে “অযৌক্তিক, লজ্জাজনক ও করুণ” বলে অভিহিত করে।
মঙ্গলবার দেওয়া ওই দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, পানামার আদালত প্রাসঙ্গিক তথ্য উপেক্ষা করেছে এবং বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে হংকং ও চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ন্যায্য ও সুবিচারভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা রক্ষায় চীনের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও উপায় রয়েছে।
চীনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পানামা যদি এই রায় কার্যকর করতে এগিয়ে যায়, তাহলে দেশটিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পানামার সুপ্রিম কোর্ট সিকে হাচিসনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান Panama Ports Company–এর সঙ্গে করা বন্দরের পরিচালন চুক্তি বাতিল করে দেয়।
চীনা বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করলেও বলা হয়, একটি দেশ ধমক ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোকে নিজেদের ইচ্ছার কাছে নত হতে বাধ্য করছে এবং পানামা স্বেচ্ছায় আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
পানামা খাল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খাল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন এবং বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পরিচালিত হয়। খালটির নির্মাণে অর্থায়ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা প্রায় এক শতাব্দী পরিচালনার পর ১৯৯৯ সালে পানামার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭