
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু' অভিহিত করেছেন। তাইওয়ানে দ্বীপটিতে অস্ত্র সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে 'সাবধান' হতে হবে, বুধবার ফোনে শি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
শি বলেছেন, তিনি ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে 'বিশেষ গুরুত্ব দেন' এবং দুই পক্ষ তাদের মতপার্থক্য সমাধানের পথ খুঁজে পাবে বলেও তিনি আশাবাদী।
ট্রাম্পও চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপকে 'অসাধারণ' আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, তাদের মধ্যে 'দীর্ঘ ও বিস্তৃত' আলাপচারিতা হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, কানাডার মার্ক কার্নিসহ গত কয়েক সপ্তাহে চীনে একাধিক পশ্চিমা নেতার পা পড়ার পর বুধবার বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনীতির কর্ণধারদ্বয়ের মধ্যে এ ফোনালাপ হল।
শুল্ক যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উদ্বেগ থেকে ইউরোপের অনেক দেশই এখন চীনের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে হচ্ছে।
আগামী এপ্রিলে ট্রাম্পেরও চীন সফর করার কথা রয়েছে। রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলছেন, তিনি ওই সফরের দিকে 'আগ্রহভরে তাকিয়ে আছেন'।
শি'র সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি বলেছেন, বেইজিং এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২ কোটি টন সয়াবিন কেনার কথা ভাবছে। এখন চীন তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টন কেনে।
''চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আমার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট শি'র ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখন খুবই ভালো, এটা বজায় রাখা যে কত গুরুত্পূর্ণ তা আমরা দুজনেই বুঝি,'' ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে এমনটাই বলেছেন ট্রাম্প।
দুই নেতা এর আগে গত নভেম্বরে ফোনে কথা বলেছিলেন। সেসময় তাদের আলাপের মধ্যে বাণিজ্য, ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান, ফেন্টানিল ও তাইওয়ান প্রসঙ্গ ছিল বলে ট্রাম্প এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে জানা গিয়েছিল।
এবার তাইওয়ান ও সয়াবিন ছাড়াও দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে ইউক্রেইনে যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চীনের তেল-গ্যাস ক্রয় প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে শি স্বশাসিত দ্বীপটিকে 'চীনের ভূখণ্ড' আখ্যা দিয়ে বলেন, বেইজিং অবশ্যই সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
''তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সাবধানতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে,'' সতর্ক করে শি এমনটা বলেছেন বলে জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার অঙ্গীকার চীনের বহুদিনের। এ কাজে বল প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি তারা।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে 'এক চীন' নীতির সমর্থক, অর্থ্যাৎ কাগজে-কলমে তারা তাইওয়ানকে চীনের অংশ বলেই মনে করে। যদিও দশকের পর দশক ধরে তারা এ প্রসঙ্গে 'ধোঁয়াশা' রেখে সতর্ক কূটনৈতিক পদক্ষেপে এগিয়েছে। তারা বেইজিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রাখলেও তাইওয়ানের প্রভাবশালী মিত্র, দ্বীপটি সবচেয়ে বেশি অস্ত্রও পায় ওয়াশিংটন থেকে।
ডিসেম্বরেই ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানে অত্যাধুনিক রকেট লঞ্চার, স্বচালিত কামান ও নানান ক্ষেপণাস্ত্রসহ এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে।
বেইজিং সেসময় একে 'তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদে সমর্থনের চেষ্টা' হিসেবে অভিহিত করেছিল এবং বলেছিল, এমন পদক্ষেপ 'তাইওয়ান প্রণালীর চারপাশের অঞ্চলকে বিপজ্জনক ও সহিংস পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার গতিই কেবল বাড়াবে'।
''সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক উপকারের দিকেই যদি উভয় পক্ষ কাজ করি তাহলে অবশ্যই আমরা একে অপরের উদ্বেগ নিরসনের পথ খুঁজে পাবো,'' বুধবার ট্রাম্পকে শি এ কথা বলেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা আগে শি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলেও দুই দেশের গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে দুই নেতাই বেইজিং ও মস্কোর জোরাল সম্পর্ক নিয়ে উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করেছেন, বলেছে তারা।