
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে । এর মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তাঁর বক্তব্যে এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, "এই ইপিএ চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়; এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ।
" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে।
এর মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মোট সাত রাউন্ডের নেগোসিয়েশনে আলোচনার পর দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্নের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয় গত ২২ ডিসেম্বর।
এর মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মোট সাত রাউন্ডের নেগোসিয়েশনে আলোচনার পর দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্নের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয় গত ২২ ডিসেম্বর।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে।
অন্যদিকে জাপান ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বাংলাদেশ-জাপান ইপিএর মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য চুক্তিস্বাক্ষরের দিন থেকেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতে সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সুবিধাও পাবে।
চুক্তির অধীনে সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাতে চারটি মোডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর আরো ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গঠিত যৌথ গবেষণা দলের প্রতিবেদন একযোগে প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে ১৭টি সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশন পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ ইপিএ নেগোসিয়েশন শুরুর লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় উভয় দেশ।
সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯-২৩ মে ঢাকায় প্রথম রাউন্ডের নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়। তবে কিছু অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের কারণে নেগোসিয়েশন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এ চুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার নভেম্বর ২০২৪ থেকে পুনরায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু ও এক বছরের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের নেগোসিয়েশন শুরু হয়। ঢাকায় সে আলোচনা হয় ২০২৪ সালের ১০-১৪ ডিসেম্বর। তৃতীয় রাউন্ড নেগোসিয়েশন হয় টোকিওতে।
২০২৪ সালের ১৯-২০ ডিসেম্বর উভয় পক্ষ আলোচনা আরো জোরদার করে। গত বছর ২-৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ রাউন্ডের নেগোসিয়েশন, যা উভয় পক্ষের আলোচনা ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৫ সালের ২০ থেকে ২৬ এপ্রিলে টোকিওতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম রাউন্ডের নেগোসিয়েশনে উভয় পক্ষ জরুরি ভিত্তিতে অগ্রগতি সাধনে উদ্যোগী হয়।