প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 8, 2026 ইং
ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা যেসব যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত—টানা ২৪ ঘণ্টা।
এ ছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে জরুরি প্রয়োজন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। একই সঙ্গে জরুরি সেবা, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন চলাচলের অনুমতি পাবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় থাকবে। পাসপোর্ট ও টিকিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দর যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না। পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চলাচলেও কিছু শিথিলতা থাকবে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টদের জন্য আলাদা সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি ও নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শনের শর্তে প্রার্থী ও এজেন্টরা একটি করে ছোট যান—জিপ, কার বা মাইক্রোবাস ব্যবহার করতে পারবেন।
সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যানবাহন এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবা স্বাভাবিক রাখতে বিটিআরসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চলাচল করতে পারবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা এবং আন্তঃজেলা বা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়।
এদিকে, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজন অনুযায়ী এ বিধিনিষেধ আরও কঠোর বা শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭