মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে জীবনের সেরা পরামর্শ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ প্রথমে শাস্তি মনে হলেও পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় এর গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। একই সঙ্গে তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান ইশরাক হোসেন।
পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি সেই নির্দেশ একবাক্যে মেনে নিয়েছেন।
ইশরাক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে পদত্যাগের নির্দেশকে শাস্তি মনে হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, একটি গণমাধ্যম ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে তার চরিত্রহনন এবং তাকে জনগণের সমালোচনার মুখে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল।
ইশরাক বলেন, এর মাধ্যমে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি করে তাকে রাজনৈতিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করা হতো। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারত, যার ফলে তার রাজনৈতিক জীবনও হুমকির মুখে পড়ত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী অতীতে একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের কথাও তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি নিজের আস্থা প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন এবং তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কল্যাণের কথা বিবেচনা করেন।
ইশরাক লেখেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন।’
তিনি বলেন, জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিকতার প্রমাণ পেয়েছেন। এ কারণে তার সিদ্ধান্তের প্রতি নিজের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
নিজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি একটি কঠিন কাজ শুরু করেছিলেন। তবে সেই কাজকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে পদত্যাগের মাধ্যমে তিনি ওই পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে পেরেছেন।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শের মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
একই সঙ্গে নিজের দলের ভেতরে কেউ সুযোগসন্ধানী ভূমিকা পালন করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
তবে অভিযোগে উল্লেখ করা গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী কিংবা দলের সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করেননি ইশরাক হোসেন।
এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেননি; বরং তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
তবে বৃহস্পতিবারের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পদত্যাগ করেছেন এবং সেই সিদ্ধান্তকে নিজের জন্য সবচেয়ে উপকারী পরামর্শ হিসেবে দেখছেন।





