চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে জড়িতদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করে পার পেয়ে যেতে পারবেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা চলে সভা।
বৈঠকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
সভামঞ্চে তারেক রহমানের এক পাশে বসেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি। অন্য পাশে ছিলেন আব্দুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বৈঠকে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা, সরকারের কার্যক্রম, সংসদ পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের উদ্দেশ্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, গত মাসের ১০ তারিখে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হয়েছে। আগামী মাসে নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় না। তবে সংসদ সদস্যদের সমস্যা জানা এবং সেগুলোর সমাধানের উপায় খুঁজতেই প্রধানমন্ত্রী বিশেষ এ বৈঠকের নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তারা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরাও তাদের দায়িত্বাধীন বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন।
সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, সরকারি কার্যক্রম জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, কোথাও কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা সংসদ নেতা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অবহিত করতে সংসদ সদস্যদের বলা হয়েছে। আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চিফ হুইপ জানান, পূজা উদযাপনে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সংসদ সদস্যদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ যাতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দলীয় শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বৈঠকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবাইকে দলের নিয়মনীতি মেনে চলতে বলা হয়েছে।
বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’
এদিকে আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে আলোচনার কিছু নেই। কেউ ফিরে আসতে চাইলে আসতে পারেন, তবে সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।