জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোছা. উম্মে হাবিবাকে আটক করা হয়েছে।

তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে কথিত সাংবাদিক ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা মো. শাহীন আলম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর অধিনায়কের নেতৃত্বে বুধবার ভোর রাতে পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম উচনা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী পশ্চিম উচনা এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. শাহীন আলমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় মেম্বার, ইমাম ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তার বাড়িতে তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে শাহীন আলমের নিজ কক্ষ থেকে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ৩ হাজার ৭৯৭ টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানের সময় শাহীন আলম বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মোছা. উম্মে হাবিবাকে আটক করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পলাতক শাহীন আলম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঁদা আদায় এবং ছোট ছোট গ্যাংয়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন, পলাশ মিয়া এবং স্থানীয় মেম্বার লাইজু মিয়ার মৌখিক অভিযোগের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহীন দীর্ঘদিন ধরে একটি গ্যাং তৈরি করে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন।

২০ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, টাস্কফোর্সের অভিযানের পর পলাতক শাহীন আলমকে আসামি করা হয়েছে। আটক উম্মে হাবিবাকেও মামলার আসামি করে উদ্ধার করা ট্যাপেন্টাডল, নগদ অর্থ ও অস্ত্রসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তর করা হবে।