দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে নেমে আসে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ প্রশমনে চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় তেলের দামে থাকা ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্যের একটি অংশ কমছে।

তবে এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এই আশা কতটা যৌক্তিক, সেটি অন্য প্রশ্ন। সময়ই তা বলে দেবে।’

এদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।