বাংলাদেশ ও ভারতের সামগ্রিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তার মতে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অন্যান্য ক্ষেত্রের সম্পর্কও আরও সহজে এগিয়ে যাবে।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু থাকতে পারে। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, উন্নয়ন চায়। সেই উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করা উভয় দেশের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার। সেটি ঠিক থাকলে অন্যান্য সম্পর্কগুলোও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে।’

বৈঠকের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। তবে গত দেড় বছরে দুই দেশের বাণিজ্যে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা কীভাবে দূর করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজ ও গতিশীল করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অংশীদার। ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলসীমান্ত দিয়ে সুতা আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় তোলা হয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগ ও দায়িত্বকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কয়েক দিন আগে ভারতের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলও তার সঙ্গে বৈঠক করেছে। ওই প্রতিনিধিদল দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের নিয়ে পৃথক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবও এসেছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে গতি আনা, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজে বের করা এবং পারস্পরিক ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানো। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

এদিকে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উদ্যোগে পণ্য উৎপাদনের ওপরও গুরুত্ব দেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন শিল্পের সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প অত্যন্ত শক্তিশালী। ভারত এ খাতে জিপার, বোতাম ও যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করতে পারে। এতে দুই দেশের শিল্পখাতের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের বাজারে কোনো শার্ট বা টি-শার্টে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখলে তার ভালো লাগে। প্রতিবেশী বাংলাদেশের শক্তিশালী পোশাক খাতের সঙ্গে ভারতের যৌথভাবে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

তার মতে, বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশই আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।