ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা এসব মরদেহের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে গাজার বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স।
রোববার (১৮ অক্টোবর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গাজা সিটির দারাজ এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৭৫ জনের একসঙ্গে জানাজা শেষে দাফনের আয়োজন করা হয়েছে।
ইসরায়েলি হামলায় ভবন ধসে নিহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে মরদেহগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিল। উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে সেগুলো বাইরে আনা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর নিচে এখনো প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ পড়ে রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন।
তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে বিপুলসংখ্যক মরদেহ চাপা পড়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের হামলায় গাজার আবাসিক ভবনসহ অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে বহু ফিলিস্তিনি খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপত্যকার সীমান্তবর্তী অধিকাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
এর মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। তবে বিপুলসংখ্যক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এখনো হাজারো মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, এখনো চাপা পড়ে আছে ৮ হাজার
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬
১ দিন আগে
শেয়ার করুন:

আন্তর্জাতিক
মতামত(0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন
সংবাদে মতামত প্রকাশ করতে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন (Registration) অথবা লগইন করুন।




