আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের জামিনের বিষয়ে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী ও মৃত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আদালতে মামলার বাদীপক্ষ ও আসামিপক্ষের মধ্যে হওয়া একটি আপসনামা জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের সংশ্লিষ্ট এক উপপরিদর্শক (জিআরও)। আসামিপক্ষের আইনজীবী মিফতাহুর রহমানও আপস-মীমাংসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমের জামিন মঞ্জুর হলে বাদীপক্ষ বা পরিবারের সদস্যদের কোনো আপত্তি থাকবে না। পাশাপাশি উভয়পক্ষ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে এবং বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
আপসনামায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ ও সাতক্ষীরার বাসিন্দা মো. আবদুল হালিম মোড়ল স্বাক্ষর করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, আবদুল হালিম এমপি গাজী নজরুল ইসলামের শ্যালক।
মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ১০ দিন পর এই আপসনামার বিষয়টি সামনে এলো। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঢাকার চিফ অ্যাডিশনাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বুধবার শুনানি শেষে মাকসুদা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। তবে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়নি বলে জানিয়েছেন আদালতের এক কর্মচারী।
এর আগে দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর পরদিন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার নথিতে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হবে।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়মের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই ‘নৈতিক অসদাচরণের’ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।