জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে অব্যাহতি পাওয়া গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর কারাগারে থাকা অবস্থায় রিমান্ডে নির্যাতন এবং ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করার অভিযোগ করেছেন।
শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
গাজী সালাহউদ্দিন দাবি করেন, নির্যাতনের বিষয়টি বাইরে প্রকাশ করলে তার পরিবারের সদস্যদের গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে কেন ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে—এমন কথা বলেও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাগার ও রিমান্ডে তাকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এরপরও সত্য তুলে ধরতেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন।
অসুস্থতার কারণে কথা বলতে না পারায় তানভীরের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত।
লিখিত বক্তব্যে তানভীর বলেন, ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি এইচ এস মাফুতুন আহমেদ খান।
তিনি অভিযোগ করেন, বগুড়া কারাগারে তাকে এমন একটি সেলে রাখা হয়েছিল, যেখানে পরিবেশ ছিল অপরিচ্ছন্ন এবং আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ছিল না। সেখানে বিদ্যুৎ ও ফ্যানের ব্যবস্থাও ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
তানভীরের অভিযোগ, কারারক্ষীদের কেউ কেউ তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করতেন এবং আশপাশের বন্দিরাও তাকে বিভিন্নভাবে অপমান করতেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট কারাগারে নেওয়ার পর তাকে দুই দিন আগের পচা খাবার দেওয়া হয়। ওই খাবার খাওয়ার পর তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তানভীর অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ না দিয়ে তাকে অজানা ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। তার শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন দেওয়ার পর একদিন তার হাত-পা কাঁপতে থাকে। পরে চিকিৎসক এসে ইনজেকশন দিলে তার ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক স্ট্রোক হয়েছে বললেও কারা কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করানোর কথা বলা হলেও পরে নানা জটিলতা তৈরি হয়। এমআরআই করার সময় যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অচেতন ছিলেন বলেও জানান।
পরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাকে ঢাকায় আনা হয় বলে জানান তানভীর। তার অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে রাখার পর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও চিকিৎসার পরিবর্তে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কারাগারে নেওয়ার সময় গাড়িতে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি উঠে তাকে নির্যাতন করেন।
তানভীর বলেন, নির্যাতনের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, জুলাইয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এভাবে নির্যাতন করা হবে।
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তুলনামূলক ভালো অবস্থায় ছিলেন, তারা ফোনে কথা বলতেন, ভালো খাবার পেতেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে পারতেন।
তবে গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।