মাল্টা, পোলাওয়ের চাল, ডিম ও এলপি গ্যাসসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দুই মাস ধরে বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমদানির নথি অনুযায়ী প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন ব্যয় ও মুনাফা যোগ করলেও প্রতি কেজির সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাল্টার মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহ–সংকটের কথা বলা হলেও আমদানির তথ্য তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে।

এরপরও বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত দুই মাসে অসাধু সিন্ডিকেট জনগণের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পোলাওয়ের চালের দাম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল বর্তমানে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু এই পণ্য থেকেই গত তিন মাসে আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

ডিমের দাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা, যা এখন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির খাবারের দাম বাড়ার যুক্তি দেখানো হলেও সেই ব্যয়বৃদ্ধির হিসাবে প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে বেড়েছে পাঁচ টাকা বলে দাবি করেন তিনি।

এলপি গ্যাসের দাম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কয়েক দফা বাড়ানোর পরও বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমদানি পর্যাপ্ত থাকার পরও প্রতিদিন অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা কার পকেটে যাচ্ছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দেশ আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি ফ্যাসিবাদী আমলের মতো হয়ে উঠছে। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।