মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এসব বিষয় ওঠে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ভারত দ্রুত করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ওসমান হাদি হত্যা মামলায় জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাকে দেশে ফেরাতে এর আগেও ভারতকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, গত বছরের ডিসেম্বরে গুলিতে নিহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন পরে পশ্চিমবঙ্গে আটক হন বলে জানানো হয়েছে। এরপর থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ঢাকা।
শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, বৈঠকে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভারতের নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় তার গত দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এটিই তার প্রথম সাক্ষাৎ। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।





