ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্যের দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

রোববার দুপুরে শেরপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম ও কৃতকর্মের কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন। এ ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। তা না হলে দেশের ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হতে পারে।’

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের ইচ্ছামতো নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করানো হতো। এর ফলে প্রায় ২০ বছর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পর্যটনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কারণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টরা আরও দুই-তিন বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ সিকিমের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে পারত।

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি আর ২০২৪ সালে আমরা সার্বভৌমত্ব পেয়েছি। এই অর্জনের পেছনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ রাখতে হবে। তাঁদের চেতনাকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

সভায় শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় পর্যটন বিকাশের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে পর্যটন করপোরেশনের পর্যটন স্পট, হোটেল ও মোটেল নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন ওরফে প্রিয়াঙ্কা, জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মো. শাহীন, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া সভায় বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতারাও অংশ নেন।